Along the path of silence-Jasmina Khatun

নিঃশব্দতার পথ ধরে
জাসমিনা খাতুন

কয়েক দিন ধরে একটা বর্ণও জন্মায়নি আমার ভিতর…
শব্দেরা যেন বুকের ভেতর জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে ছিল —
কোনো আহ্বান, কোনো আলো ছুঁয়াতে চায়নি।

ঘর থেকে বেরোইনি, আকাশও দেখিনি,
এমন নিস্তব্ধতায় মনের ভাঁজে জমে ছিল এক গোপন বিষণ্নতা,
যা হয়তো নিজেই নিজের ভাষা খুঁজে পাচ্ছিল না।

হঠাৎ আজ বিকেলে —
বুকের ভিতর ছটফটিয়ে উঠল একটা আলতো অস্থিরতা।
ইচ্ছে করল, সমস্ত পথ ঘুরে আসি…
নিজেকেই খুঁজতে বেরিয়ে পড়ি বাতাসের বুক চিরে,
দৃষ্টি যত দূর যায়, সেই শুনশান পথ ধরে হাঁটি —
যেখানে অপেক্ষার নিঃশব্দতা পড়ে থাকে পথের গায়ে।

পাশেই এক পুকুর…
জলের উপর হাসছে পদ্ম,
যেন বলছে —
“নিঃশব্দেও জন্ম হতে পারে সৌন্দর্য!”

কত পথেই তো হেঁটেছি আমি…
কখনো একা নিঃসঙ্গ, কখনো হইহই করে প্রাণের সঙ্গীরা পাশে ছিল।
কখনো দেয়াল বেঁধেছি চারপাশে,
আবার কখনো সেই দেয়াল নিজেই ভেঙেছি নিজের ভিতর।

কিন্তু আজকের এই পথ…
এ যেন ভাগ্যেরই কোনো অদ্ভুত কবিতা —
যার বাঁকগুলো আমার নিজের অজান্তেই জীবনের পৃষ্ঠায় ছাপ রেখে যায়।

পশ্চিমের গেরুয়া সূর্য ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছিল,
জলের মাঝে থইথই হাসছিল আলো…
একটুকরো গোপন প্রেম যেন মিশে ছিল সেই প্রাকৃতিক প্রকৃতির নীরব হাসিতে।

মাঠের ধানচারা দুলছিল বাতাসে —
ঠিক যেন মনের ভিতর বেড়ে ওঠা এক আশ্চর্য শান্তি,
যা বুঝিয়ে দিচ্ছিল…
বেঁচে থাকা মানে শুধু আলোয় ভাসা নয়,
কাদা মাখা পথেও তো থাকে বেঁচে থাকার ছন্দ।

সন্ধ্যা নামল…
দূর থেকে ভেসে এলো আজানের ধ্বনি,
আরও খুব কাছ থেকে মেয়েবউদের শঙ্খ-আলাপ,
দুই ধ্বনি মিলে গেল আমার প্রার্থনার প্রাচীরে —
একমাত্র সেই মধুর প্রার্থনা,
যা শুধু বলে —
“আলো থাকুক, অন্ধকার থাকুক, ভালো থাকুক।”

আর আমি?
আমি তখনও পথে -পথে, পথের ধারে…
জানি, আলাপচারিতার পড়ন্ত বিকেলে
শব্দেরা ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নামে হৃদয়ের দালানে,
শব্দেরা আসে…
ঠিক তখনই, যখন মনে হয় আর আসবে না।

রামপুরহাট, বীরভূম, ভারত
২২/০৭/২০২৫
Hën, 10:18 MD
Jasmina
অনন্ত ব্যাধির প্রণয়
জাসমিনা খাতুন

জীবন ও জীবিতের মাঝে এক দীর্ঘ অসুখ গেঁথে আছে, যেমন কর্কট পুষে রাখা হয় চামড়ার নিচে। কেউ তাকে প্রেম বলে, কেউ বলে কাম—আর আমি কেবল অনুভব করি, এক মৃদু বিষ, যা নীরবে আমায় রক্তাক্ত করে।

এই জনমে কেউ শিখেছে কীভাবে আঁকড়ে ধরতে হয়—ভয় পেয়েও, নিঃসঙ্গতায় গুটিয়েও, বুকের ভেতর কান্না লুকিয়ে। আর কেউ শিখে গেছে—ভালোবাসতে গিয়ে কীভাবে হাওয়ায় মিশে যেতে হয়, অস্তিত্ব ফুরিয়ে দিলেও প্রিয়তমের পাশে নিঃশব্দ থেকে যেতে হয়।

আমি কখনোই মরুভূমিতে জল খুঁজতে আসিনি। আমি এসেছিলাম এক তৃষ্ণাহীন তৃষ্ণা নিয়ে—যেখানে চুম্বন জন্ম দেয় করুণার, মোহের, মায়ার। ভালোবাসা ছিল সেখানে, কিন্তু কোনো দাবির নাম নয়, কোনো পেতে রাখা বিছানা নয়—শুধু এক দীর্ঘ অপেক্ষা, এক আত্মদান, এক তপ্ত চিতার প্রতীক্ষা।

এখন আমি দাঁড়িয়ে আছি মহাবিশ্বের এক বিন্দু কোণে, যেখানে শব্দ নেই, ব্যাখ্যা নেই, শুধু রয়ে গেছে শূন্যতার মুখ। আকাশ মাথার ওপর, অথচ কোনো চিহ্ন নেই—নেই সেই পুরনো ভালোবাসার গন্ধ, নেই আশ্বাসের ছায়া।

তুমি যদি আজও বলো—এই ব্যাধিটাই প্রেম, তবে আমি মেনে নেব। যদি বলো, মৃত্যুই প্রেমের অপর নাম, তবে আমি মৃত্যুকেও ভালোবেসে ফেলব।

কারণ প্রেমের তো কোনো সীমানা নেই। যেমন ব্যাধিরও নেই শেষ।
আর মৃত্যু?
মৃত্যু তো আমার জানা নেই —তবু যদি সেখানে তোমার ছায়া থাকে, আমি তাতেও আশ্রয় খুঁজে নেব।

রামপুরহাট, বীরভূম, ভারত
২৯/০/২০২৫

everyonehighlightsfollowers #bengalipoetry #NobelPrize #everyoneactive #highlight #bengali #literaturelover #NobelPeacePrize #followers #friends