Silver fire-Jasmina Khatun

রূপাগ্নি
জাসমিনা খাতুন

তবে কি তৃপ্ত হব, তৃপ্তি দেবে,
যদি জ্বলে জ্বলে তোমাকে আলোকিত করি?

নাভি থেকে ধীরে ধীরে কুণ্ডলী পাকিয়ে
দাবানল ছড়িয়ে পড়বে সমগ্রে।

ঘোর কৃষ্ণবর্ণ তুমি,
তার পরে ছাইভস্মের শরীর,
একমাত্র স্বচ্ছ চোখটাই নিখুঁত সৌন্দর্য।

আমি রুপোর মতো রূপসী,
ঔজ্জ্বল্যে সম্মোহিত আধ্যাত্মিক শুদ্ধি।

তোমার আমার মিলনে তৃপ্তি দেবে! তৃপ্ত হব কি আমি?

রামপুরহাট,বীরভূম,ভারত
১০/০৯/২০২৫
Jasmina
আরশির পেছনে
জাসমিনা খাতুন

সঙ্গিনীর রসে ডুবে,
কখনো কখনো আমি হয়ে যাই মোনালিসার লিওনার্দো।

অনুভূতি উপচানো হৃদকমলের পাতায় পাতায়
লিখে ফেলি সিলভিয়া প্লাথের কবিতা।

সকৌতুকে উৎকণ্ঠিত পড়শীর কাচের জানালায়
ভাসছে সতেজ, শিং-যুক্ত প্রলেপ।

অগ্নিদগ্ধ শহরে আসক্তির পেঁচাগুলো
আরশির পেছনে লুকিয়ে ফেলেছে
ছোট ছোট আত্মবিলুপ্তির ব্যর্থতা।

রামপুরহাট, বীরভূম, ভারত
১০/০৯/৩০২৫
Jasmina
চেনা চুমুর দেশে
জাসমিনা খাতুন

আমার পাখি কখনও গ্লাসে, কখনও পেয়ালায়,
কখনও নকশি পাত্রে ঢেলে ঢেলে পান করে প্রেম।
আমি বৃথা খুঁজেছি আমার ভেবে।

আছড়ে পড়ছি দুধসাদা লোমশ বুকে,
চেনা চুমু এঁকেছি ঠোঁটা-ঠোঁটির বালুচরে।

পলক থেকে পলক খুলে টের পেয়েছি,
ও এখন উড়ে গিয়ে বাসা বেঁধেছে
উঁচু উঁচু স্তনবোঁটার চুম্বন-সুখে।

হয়তো সীমাহীন হাহাকারে
পরকীয়া অমৃত পান করে
ঘুমিয়ে পড়েছে অনুপম নিতম্বের সুগন্ধি মেখে।

রামপুরহাট,বীরভূম,ভারত
৯/০৯/২০২৫
Jasmina
নোনা জলের প্রিয়তা
জাসমিনা খাতুন

মদ খাই না কোনদিন—
তবু রক্তে ফেনিয়ে ওঠে প্রলাপ, পুরোনো দুঃস্বপ্নের ঠোঁটে জমে আছে অনুশোচনার আলোক।

টলমল এই হেঁটে চলা নয় দুর্বলতা, অন্তর্গত অভিমান—
বেদনার হলুদ কাঁদে না আর, আঁকে নতুন বিপ্লবের মানচিত্র।

এই কালরাত্রি? জেগে থাকি উলঙ্গ দৃষ্টির ঠিক বিপরীতে,
প্রেমের স্বপ্ন দৌড়োয় না,
স্বপ্নকে বন্দি করে রাখি।

প্রিয়সী বলি যাকে—
সে এখন কোনো চরিত্র নয়,
সে এক মিথ,
তার প্রিয়তা আমি ফিরিয়ে দিয়েছি সাগরের নোনাজলে।

কপোট?
সে যে ছলনার ভাষা জানে—
তাকে আজ আমি আমার কবিতার বাইরে রেখেছি,
সে আর সাঁতার কাটবে না আমার অলিন্দে।

এখন আমি একা, নিঃস্ব, তবু শুদ্ধ—
অন্তরে এক কবিতার গর্জন বেঁচে আছে,
সে কাঁদে না, শুধু আগুনের মতো শিখায় আলোকিত করে।
রামপুরহাট বীরভূম ভারত
৮/০৯/২০২