The Last Watchman-Jasmina Khatun

শেষ প্রহরী
জাসমিনা খাতুন

মসজিদ-মন্দিরের ওপর জেগে থাকা মানুষ, শহরের ধমনীতে যখন মিথ্যে রক্ত ঝরায়—
আমি তখন হাঁটি নাগরিক ক্লান্তি আর সমকামী গলি পেরিয়ে।

থেমে গেলে দেশটা বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন? আর উত্তরের অভাবে ধর্মগুলো পাহাড়ের মতো উঁচু।

সবাই বলে ভক্তি মানেই নতজানু হওয়া, সবাই বলে দেশ মানেই পতাকার নিচে শ্রদ্ধায় দাঁড়িয়ে থাকা।

কিন্তু আমি দেখেছি, ঈশ্বর যখন নিজের অস্তিত্বের ভয় পান, তখন মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন ঠিক এমনই কোনো উঁচু মন্দির বা উঁচু মসজিদে।

আর ব্যক্তিগত কাম-ক্রোধ-হিংসা শেয়ালের মতো ক্ষুধার্ত হয়ে ওঠে; মায়ের স্তন থেকে রক্ত চুষে বুক খুঁড়ে ফেলে, খাবলে-খুবলে ছিঁড়ে ফেলে।

আমি তখন অন্ধকারের বুক চিরে আলো হাতে হাঁটি, নিজের পাওনাটুকু ছিনিয়ে আনি।

অথচ তোমরা বলো আমি নাস্তিক!

চোখে ধুলো আর হাতের আঙুলে থুতু দিয়ে আমরা যে খিস্তি লিখি মানচিত্রে, তাতে কি মিশে থাকে না নাস্তিকতা? কী অদ্ভুতুড়ে আমরা!

এই নষ্ট শহরে যেখানে ভক্তি মানেই নীরব পাহারা, সেখানে আমি জেগে আছি নাস্তিক হয়ে—এটাই আমার অবাধ্য দেশপ্রেম।

আসলে যে দেশের ঈশ্বর ঘুমান, সেখানে নাস্তিকতা তো পবিত্রতার ভান ছেড়ে ‘শেষ প্রহরী’।

রামপুরহাট, বীরভূম, ভারত