
বন্য স্মৃতি
জাসমিনা খাতুন
কি আশ্চর্য! ফিনকি দিয়ে রক্তপাতের মতো ছিঁড়ে যাওয়া চিন্তায়,
আমি নীরব হতে শিখেছি,
একাকিত্বের ছায়া গায়ে মেখে
গান গাইতে শিখেছি নিজেরই নিঃসঙ্গতার তালে।
তবু একটিই শিক্ষা এখনো অসম্পূর্ণ —
তাকে ভুলে থাকা, তাকে ভুলে থাকতে এখনো শিখিনি।
তার শরীরের ভিতর থেকে উঠত অপরূপ ঘ্রাণের বন্যা —
ভিজে মাটির গর্ভে লুকোনো প্রথম বৃষ্টির গন্ধ মতো,
শিউলি ফুলের পাপড়িতে প্রভাতী আলোয় জমে থাকা আগুনের শিশিরের মতো।
সে ঘ্রাণে মিশে থাকত আদিম ডাক,
যে ডাকে দেহ ও আত্মাকে জাগিয়ে তুলত।
আজও আলো নিভলেই
তার গন্ধ ভেসে বেড়ায় বালিশের চার পাশে, চোখ বন্ধ করলেই দেখি — শরীরের ভিতর থেকে উঠছে ধোঁয়া,
বুক ভরে যাচ্ছে অজানা উষ্ণতায়।
আমি তখন নিজেকে চিনতে পারি না,
নীতির পোশাক খুলে যায় একে একে,
হারিয়ে যাই প্রেমের নিষিদ্ধ বনে।
বন্ধুরা হাসে, বলে — হেরে গেছে, মৃত্যুর দিকে ভেসে গেছে, এ যুগের “লেডি মজনু”,
আমি ও তখন শুধু মৃদু-মৃদু শীতলতায় হাসি…
রামপুরহাট, বীরভূম, ভারত
৭/১১/২০২৫