
ধাতুর প্রলেপ
জাসমিনা খাতুন
সমাজ, তুই কি হাড্ডিসার কঙ্কাল!
তুই কি ট্রাফিক জ্যামে দামি গাড়ির চট করে উঠে যাওয়া কাচ?
না কি হেডলাইনের চড়া মেকআপের হাসিমুখ?
তোর আয়না কোথায়?
কোথায় তোর ধাতুর প্রলেপ?
তুই কি জানিস, আজও দেখলাম এগারো বছরের নাবালিকার ধর্ষণ ও খুন।
তুই বল, নারী কি কেবল ভোজের মাংস?
ছিঃ! ছিঃ! লজ্জা!
তবে কি এই লজ্জাই হয়ে থাকবে জাতীয় পরিচয়..?
কোথায় তোর বিবেচনা ও বিবেক?
কোথায় তোর আয়না..?
রামপুরহাট, বীরভূম, ভারত
৬/০৭/২০২৬
উপহাসের জননকেন্দ্র
জাসমিনা খাতুন
উপহাসের জননকেন্দ্র
জাসমিনা খাতুন
আজ সকাল থেকেই বসেছি একটি বিকৃত হাসির ব্যবচ্ছেদে।
যে বিদ্রূপের ঝলক তীরের মতো এসে ছিন্নভিন্ন করে আত্মসম্মান,উপহাসের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে মানুষের অন্তর—আজ তারই উৎসের সন্ধানে নেমেছি।
হাতে তুলে নিয়েছি এক বিশাল আতশকাচ;খুঁজে ফিরছি তার আদিম, নগ্ন জননকেন্দ্র।
কোথা থেকে জন্ম নেয় অহংকারী উপহাস?কোন অন্ধকার গর্ভে লালিত হয় বিষাক্ত টিটকারি?
সে কি ব্যর্থতার চোরাবালিতে রোপিত পৈশাচিক তিক্ততার বীজ,নাকি অবদমিত হিংসার পচনধরা লালা?
আমি শব্দের চামড়া চিরে দেখি,খুলে ফেলি চাতুর্যের প্রতিটি রঙিন আবরণ।
মাংসের গভীরে, অস্থিমজ্জার অন্তস্থলেটেনে আনতে চাই সেই আদিম প্রবৃত্তিকে—
যে অন্যকে খাটো করে নিজেকে উচ্চতর ভাবতে শেখে;যে মানুষের অশ্রুকে নিজের বিজয়ের উল্লাস বীর্য বলে মনে করে,আর নিষ্ঠুর হাসির চাবুক তোলে মানবতার পিঠে।
শেষে দেখলাম—তার কোনো দৃশ্যমান জ্যামিতি নেই, নেইকোনো দৃশ্যমান অঙ্গও।
উপহাসের প্রকৃত জননকেন্দ্র মানুষেরই অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত কুৎসিত মস্তিষ্কে;সেখানেই প্রতিনিয়ত জন্ম নেয় হাজারো ব্যঙ্গের ভ্রূণ,পরশ্রীকাতরতার জরায়ুতে যাদের নীরবে লালন করা হয় কোন ঠেকে বা আড্ডায়।
সেই নগ্ন প্রজননকেন্দ্র দেখেআলোও ঘৃণায় শিউরে ওঠে।
হাত থেকে থতমতো হয়ে খসে পড়ে আতশকাচ।
আর আমি,মাঝনদীতে একা দাঁড়িয়ে ভাবি—মানুষ কবে মানুষের ক্ষত দেখে হাসতে ভুলবে?কবে দাঁড়াবে সত্যের পাশে?
রামপুরহাট, বীরভূম, ভারত
১০/০৭/২০২৬