Naked-Jasmina Khatun

উলঙ্গ
জাসমিনা খাতুন

বাবা–মা–হারানো বাচ্চাটার কম্বল আছে উষ্ণ আদরের জন্য,
খোলা আকাশ আছে ঘুমানোর জন্য।
ওর ক্ষুধার্ত চোখ দুটোর কাছে তোমাদের হিংসের রঙ ফ্যাকাশে।
শীত, বর্ষা, গ্রীষ্ম—ও ,অপেক্ষা ও উপেক্ষা করতে পারে
উলঙ্গ হয়ে, খালি পেটে—
আর তোমাদের দেখিয়ে দেয়,
তোমরা পোশাক–পরিহিত, জ্ঞানে আবৃত হয়েও
কতটা উলঙ্গ!
বালি–ঝড় লেগে আছে ওর গায়ে,
সবকটা মরুভূমিও উলঙ্গ হয়ে
পাড়ি দিচ্ছে, দিগন্তের ঊর্ধ্বে ওর চলার পথে।
দ্বিতীয় বজ্রপাত ওর কাঁধে,
একদিন হয়তো এই বজ্রপাতেই ধ্বংস হবে তোমাদের স্বার্থ।
তোমরা চাইলে ওকে বসন্ত উপহার দিতে পারতে,
আর ও, ছোট্ট নগ্ন কাঁধে, বইতে পারত
ভালোবাসা, প্রেম, ভ্রাতৃত্ব ও মাতৃত্ব।

রামপুরহাট, বীরভূম, ভারত
১৮/১০/২০২৫

Naked
Jasmina Khatun

The child who lost both father and mother
has a blanket for the warmth of love,
and the open sky for sleep.
Before the hunger in those eyes,
the color of your envy turns pale.
Through winter, monsoon, and summer—
it endures waiting and neglect,
bare-bodied, empty-stomached—
and shows you,
how naked you truly are,
even while clothed in garments and wrapped in knowledge.
A storm of sand clings to its skin,
and all the deserts, stripped bare,
journey beyond the horizon along its path.
The second thunderbolt rests on its shoulder;
one day, perhaps, that very thunder
will destroy your greed.
You could have gifted it the spring,
and it, with those small bare shoulders,
could have carried
love, affection, brotherhood, and motherhood.

Rampurhat, Birbhum, India
18 /10/2025
Jasmina
বোয়াব্দিল
জাসমিনা খাতুন

আব্রাহাম টেরাসে দাঁড়িয়ে ছিল এক জোড়া শুভ্র কবুতর,
সূর্য তখন লাল আলোয় গলছিল—
মুরিশ স্থাপত্যের গায়ে তার শেষ আগুন ছুঁয়ে দিচ্ছিল।

সিয়েরা নেভাদার দূর চূড়ায়
মুয়াজ্জিনের ধ্বনি মিলিয়ে যাচ্ছিল ধূপের মতো আস্তে আস্তে, ঈশ্বরও তখন নীরব,
সময়ের নস্টালজিয়ায় ডুবে আছেন।

চাঁদ তখন বুকে তুলছে অদৃশ্য বেদনা, আল আব্রাহামের বাগানের ফুলেরা মরে যাচ্ছে নিঃশব্দে— তাদের রঙে মিশে আছে রাজ্যের শেষ নিঃশ্বাস।

জলধারা থেমে থেমে বলছে—
সব রাজ্যই একদিন বিলীন হয়, সব গৌরব শেষমেশ কুয়াশার মতো ভোরে হারিয়ে যায়।

তবু প্রেম?—
হ্যাঁ, প্রেম,
মারাইমার চোখে তখনও দীপ্ত ছিল আশ্রয়ের আগুন।

সে বলল,
“সব হারিয়েছি, তাতে কী হয়েছে?
তুমি তো আছো— এইটুকুই আমার পৃথিবী।”

বোয়াব্দিল কিছুক্ষণ নীরব,
তার দৃষ্টি তখন বৃষ্টি-ভাঙা আকাশের মতো নরম।

সে ফিরে তাকাল— আরো একবার, আলহাম্বারার লাল প্রাচীরে সূর্য তখন শেষবারের মতো চুমু খাচ্ছিল।

মারাইমা তার হাত ধরল দৃঢ়ভাবে, চুপি চুপি খুব শান্ত কণ্ঠে বলল,
“প্রিয়, বলো— প্রেম কি শহর হারালে মরে যায়?”

বোয়াব্দিল কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“না, প্রিয়তমা…
প্রেম মরে না—
সে বেঁচে থাকে প্রতিটি ইটের ভেতর,
প্রতিটি জানালার ছায়ায়,
প্রতিটি নিঃশ্বাসে,
যা আজও আলহাম্বারার পাথরে ঝরে পড়ে চাঁদ উঠলে আকাশ জুড়ে।”

এখনও,
সেই লাল প্রাচীরের ভেতর গোধূলি নামে, পাহাড় থেকে নেমে আসে অদ্ভুত আলো—
মনে হয়, বোয়াব্দিলের সেই শেষ নিশ্বাস আলহাম্বারার দেওয়ালে লেগে
আজও বলে যায়—
“প্রেম মৃত্যুর নয়,
প্রেমই তো অমরত্বের প্রথম নাম।”

রামপুরহাট, বীরভূম, ভারত
২৮/১০/২০২৫